"ট্রানজিট অফ মারকারী" সাক্ষী থাকুন ৯ই মে সোমবার

আগামী সোমবার ৯ই মে ২০১৬ সাক্ষী  থাকতে পারবেন এক দুর্লভ মহাজাগতিক ঘটনার | সূর্যের গায়ে দেখা যাবে ছোট একটি চলমান কালো বিন্দু। এই ঘটনাটি ঘটবে ভারতে ৯ মে বিকাল বেলায় সূর্যাস্তের আগে যখন বুধ গ্রহ সূর্যের এক প্রান্ত দিয়ে প্রবেশ করবে এবং খুব ছোট কালো টিপের মতো বুধ গ্রহকে সূর্যের উপর ধীরে ধীরে চলমান অবস্থায় দেখা যাবে। 

প্রায় সাড়ে সাত ঘন্টা সময় লাগবে বুধ গ্রহের সূর্যের একটি তলের এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্ত অতিক্রম করতে। এই ঘটনাকে বলা হয় সূর্যের উপর বুধের সরণ (ট্রানজিট অফ মারকারী ওভার দ্য সোলার ডিস্ক)। দীর্ঘ ১০ বছর পর এই মহাজাগতিক ঘটনা ভারত থেকে দৃশ্যমান হতে চলেছে।
এই ঘটনার শুরু থেকে কিছুটা সময় পর্যন্ত ভারতের সমস্ত জায়গা থেকে দেখা যাবে, কিন্তু পুরোটা দেখা যাবে না কারণ তার আগেই সূর্যাস্ত হয়ে যাবে ভারতের সব জায়গায়। ভারতে বিকাল ৪.৪১ থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সরণ দেখা যাবে | ভারতের একদম পূর্ব প্রান্তে এই বুধের সরণ দেখা যাবে শুরু থেকে সূর্যাস্তের সময় পর্যন্ত প্রায় ১ ঘন্টা। দেশের পশ্চিম প্রান্তে সূর্যাস্ত হবে দেরীতে এবং ভারতের একদম পশ্চিম প্রান্তে এই ঘটনা প্রায় ২ ঘন্টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত দৃশ্যমান হবে।
 
 
পৃথিবী থেকে সূর্যের উপর এই ধরনের সরণ দেখা যায় শুধুমাত্র বুধ এবং শুক্র গ্রহের ক্ষেত্রে। পৃথিবী আর সূ‌র্যের মধ্যে থাকে তিনটি জ্যোতিষ্ক। একটা তো চাঁদ। তাও সব সময় পৃথিবী আর সূ‌র্যের মধ্যে থাকে না। আর বাকি দু’টো হল দুই গ্রহ, বুধ ও শুক্র। এবার মজাটা হল, সূ‌র্যকে সমস্ত গ্রহগুলি একটি দ্বিমাত্রিক তলে প্রদক্ষিণ করে। খেয়াল করে দেখবেন, সেজন্য রাতের আকাশে দৃশ্যমান গ্রহগুলিকে মোটামুটি এক সরলরেখায় ‌যোগ করা ‌যায়। তার ফলে কখনো সূ‌র্য আর পৃথিবীর মাঝখানে এসে পড়ে বুধ বা শুক্র। সূর্য গ্রহণের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। এক্ষেত্রে সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে চলে আসে চাঁদ। কিন্তু চাঁদ যেহেতু পৃথিবীর অনেক কাছে অবস্থিত তাই আকারে অনেক বড় দেখায় চাঁদকে। তারফলে, চাঁদ পুরোপুরি সূর্যকে ঢেকে ফেলতে পারে। কিন্তু বুধ এবং শুক্র গ্রহ পৃথিবী থেকে অনেক দূরে অবস্থিত। তাই এই গ্রহ যখন সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যখানে একই সরলরেখায় চলে আসে, তখন এদের পৃথিবী থেকে ক্ষুদ্র বিন্দুর মতো লাগে এবং একটি কালো বিন্দু সূর্যের উপর চলমান অবস্থায় দেখা যায়। 
 
 
২০০৪ এবং ২০১২ সালের জুন মাসে এরকমই সূর্যের উপর শুক্রের সরণ দেখা গিয়েছিল কলকাতা তথা ভারতবর্ষ থেকে। আর বুধের সরণের একদম শেষ পর্যায় দেখা গিয়েছিল ২০০৬ সালের ৬ নভেম্বর ভারতের একদম উত্তর-পূর্ব প্রান্তে সূর্যোদয়ের সময়। সূর্যের উপর বুধের সরণ একটি বিরল ঘটনা কারণ ১০০ বছরে মাত্র ১৩ থেকে ১৪ বার এই ঘটনাটি ঘটে। এই মহাজাগতিক ঘটনাটি ঘটে মে এবং নভেম্বর মাসে। একটি নভেম্বরের বুধের সরণ থেকে পরবর্তী নভেম্বরের বুধের সরণ ঘটে সাধারণত ৭, ১৩ বা ৩৩ বছর বাদে এবং দুটি মে মাসের বুধের সরণের সময় পার্থক্য সাধারণত ১৩ বা ৩৩ বছর। পরবর্তী বুধের সরণের ঘটনা ঘটবে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর, কিন্তু ঘটনাটি ভারতবর্ষ থেকে দেখা যাবে না কারণ এটি শুরুই হবে ভারতের সমস্ত জায়গায় সূর্যাস্তের পর। পরবর্তী যে বুধের সরণ কলকাতা তথা ভারতবর্ষ থেকে দেখা যাবে সেটি ঘটবে ২০৩২ সালের ১৩ নভেম্বর।

আগামী সোমবার এই ঘটনাটি দেখতে পাওয়া যাবে এশিয়ার প্রায় সব জায়গা (শুধুমাত্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং জাপান থেকে দেখা যাবে না), ইউরোপ, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, উত্তর আমেরিকা এবং উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের বেশিরভাগ জায়গা থেকে। ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেখা যাবে শুধুমাত্র উত্তর আমেরিকার পূর্ব প্রান্ত, দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর প্রান্ত, গ্রীনল্যান্ড, আফ্রিকার সুদূর উত্তর-পশ্চিম প্রান্ত, পশ্চিম ইউরোপ এবং উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর থেকে।

 পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা, কোচবিহার, দার্জিলিং, শিলিগুড়ি, মুর্শিদাবাদ ইত্যাদি জায়গায় বুধ গ্রহ সূর্যের উপর প্রবেশ করবে বিকাল ৪টে ৪১ মিনিটে। কলকাতায় ঐদিন সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ০৭ মিনিটে। অর্থাৎ কলকাতায় এই ঘটনাটি দেখা যাবে শুরু থেকে ১ ঘন্টা ২৬ মিনিট পর্যন্ত। একইভাবে শুরু থেকে কোচবিহারে ১ ঘন্টা ২৮ মিনিট, দার্জিলিং-এ ১ ঘন্টা ৩৪ মিনিট, মুর্শিদাবাদে ১ ঘন্টা ২৯ মিনিট ও শিলিগুড়িতে ১ ঘন্টা ৩২ মিনিট পর্যন্ত এই ঘটনাটি দেখা যাবে। 
 

বুধ গ্রহের আকার অতি ক্ষুদ্র। তাই, দূরবীন বা টেলিস্কোপের সাহায্য ছাড়া সূর্যের উপর বুধের সরণ দেখা অসুবিধাজনক। এই দৃশ্য দেখতে হলে দূরবীন বা টেলিস্কোপে যথযথ সোলার ফিল্টার লাগিয়ে দেখতে হবে। সব থেকে ভালো উপায় টেলিস্কোপের সাহায্যে একটি সাদা পর্দার উপর সূর্যের প্রতিবিম্ব তৈরি করে দেখা। খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকালে চোখে মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এলুমিনাইজড মাইলার, কালো পলিমার বা ১৪ নম্বর শেডের ওয়েল্ডিং কাঁচ দিয়ে তৈরি ফিল্টারের ভিতর দিয়েই এই দৃশ্য দেখা উচিৎ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা |
 

place name place name place name