সাহিত্য : বৃষ্টি ঝরার দিনে

সাহিত্য : বৃষ্টি ঝরার দিনে

 
সংখ্যা : ষষ্ঠ (বর্ষা)
আগস্ট ২০১৫
 
 
ভুলে যাওয়া বৃষ্টি, যখন
অবিরাম কথা ঝরে, তখন
পথ ভুলে আসা, মেঘেরা
ঘরের ঠিকানায় ফেরে,
বৃষ্টির জল, কান্নার মতো
চিঠির কোনায় ভিজে
তোমার কথার অক্ষরে
হারানো ঠিকানা খোঁজে |
 

 
কবিতা : রামচন্দ্র পাল, বিভাস ভক্ত, সঞ্জীব নাথ, অরিন্দম গুপ্ত, সৌরভ দাস
অণুগল্প : কৃষ্ণা বিশ্বাস
 
 
 
 
রাম চন্দ্র পাল'র কবিতা
 
আজ তুই মেঘলাবেলা
একা খুব একলা ঘরে
এসেছে নতুন হওয়া
তবু মন কেমন করে
 
তবু যে আকাশ জুড়ে
শুধু বাজ, তার হাহাকার
রেখেছে অন্য আলো
ছিঁড়ে যায় দগ্ধ আঁধার |

 

 
 
গ্রীন হাউস
বিভাস ভক্ত
 
সবুজ ! তোর জন্যই আমার ভয়
সবুজ ! দিবি তো শিমুল আশ্রয়
 
সবুজ ! বাসবি ভাল - যখন অন্ধকার
সবুজ ! বল তো তখন কে কার !
 
সবুজ ! ঘর ছাড়বি কবে !
সবুজ ! যখন আরো বনিবনা হবে ?
 
সবুজ ! হবি তো অবুঝ সিমলিপাল 
সবুজ ! ঝুলন্ত ফল হব - তুই পোক্তডাল
 
সবুজ ! রাতে হয় না তো জ্বর - রক্তকাশি 
সবুজ ! যা হোক - তবু ভালবাসি
 
সবুজ ! একবার তুই গুহামানবী হবি
সবুজ ! আমি তবে বই আদিম কবি
 
সবুজ ! জল পাই না - কোথায় বিল
সবুজ ! গলা কাঠ - খাওয়াবি তো ক্লোরোফিল
 
সবুজ ! থাক - যেমন ছিলিস আগে
সবুজ ! দ্যাখ ! তোর্ রক্ত কার গায়ে লাগে !
 
সবুজ ! যাই - চল - যাই বেস্পতি বা মঙ্গল
সবুজ ! কথা ডে, করবি না গন্ডগোল
 
সবুজ ! তুই বড় স্লো - তাড়াতাড়ি কর
সবুজ ! এখনো লজ্জা ! দেখবি না রক্তাক্ত শিকড় !
 
 
 
মাটি মানুষ কথা
সঞ্জীব নাথ
 
আকাশে আকাশে অনেক
ওড়াউড়ি ঘোরাঘুরি শেষে
আছড়ে পড়ছে সে
মাটিতে |
 
মাটির উপরেই ছিল
তার যত অবজ্ঞা
না থাকলেই ভালো হতো যেন,
কখনও নামতে হতো না
নামলেও পা ঠেকতো না মাটিতে |
 
এখন পা তো ভালো
মাটি ছুঁয়েছে মাথাও |
 
গোটা শরীর মাটি চাইলেও 
ডাঙা নেই কোথাও
সব জল
জলময় ||
 
 
 
হয় যদি দেখা 
সৌরভ দাস
 
হঠাৎ কোনো পথের ধারে
যদি হয় আবার দেখা 
আসিস আমার শূন্য নীড়ে
দেখিস ব্যথা সাজিয়ে রাখা
দুচোখ যদি আসে ভিজে
আজও আমি মুছিয়ে দেব
তোর ভিতরের যন্ত্রণা সব
দিয়ে যাস মানিয়ে নেব
মানানোটাই অনেক সহজ
শিখে আসা ছোট্ট থেকে
বুকের পাঁজর যতই ভাঙ্গুক
কেউ বোঝে না বাইরে দেখে
জানি ফেরার সময় হলে
হারিয়ে যাবি তেপান্তরে
বলে যাস একটা কথা
কেন তোকে মনে পরে ?
 
 
আবার দেখা হবে
অরিন্দম গুপ্ত
 
মেঘলা সকাল গুমোট করা
আকাশের মুখ ভারি...
মন খারাপ আজ দিনের বড়
সূর্যের সাথে আঁড়ি....
যাই ছুটে আমি দিনের কাছে
অভিমানী সে বড়
সূর্য দেয়নি খবর কোন
মানুষ কেমন তর?
যাই ছুটে আমি সূর্যের  কাছে
দিনের কথা জানাই
সূর্য বলে, "ভীষন ব্যস্ত
বলো কী করে সেথা যাই
আমার এখন কাজ পড়েছে
পৃথিবীর এ প্রান্ত
বুঝিয়ে তোমার দিনকে বন্ধু
হয়েছি ভীষন ক্লান্ত.....
দিন যে বড় অবুঝ বন্ধু
জানিনা ঠিক কবে
জানিও তাকে এক সকালে
আবার দেখা হবে.....
 
 
 
 

অবচেতনে 

কৃষ্ণা বিশ্বাস

একটু বেশি রাত হলেই বাঁশি বেজে ওঠে | শোনা যায় গৃহপালিতের গলার ঘন্টার আওয়াজ | আরও রাত হলে চোখের সামনের শহরটা বদলাতে আরম্ভ করে | বড় বড় বাড়িগুলো সব সবুজ পাহাড় | আমি নিজেও তখন এক সবুজ পাহাড়ে খোলা আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে | প্রাণ জুড়ানো বাতাস - ছড়িয়ে পড়ে বাঁশির প্রতিধ্বনি | সামনের রাস্তা, ফুটপাত, দোকানগুলো তখন কচি ঘাসে ঢাকা সবুজ মাঠ | যেখানে কোন ম্যানহোল মৃত্যুফাঁদ পেতে বসে নেই, নেই ফুটপাতের ভিখারিগুলো - টাই নেই কোনো অন্তর্দ্বন্দ্ব - বিরক্তিকর, জ্বালাময় নির্লজ্জ এক সত্য | পাহাড় থেকে মাঝে মাঝে পাথর গড়িয়ে পড়ে - তবে আজ পর্যন্ত কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে দেখিনি - এতো আর লোভী প্রোমোটারের তৈরি নয় | দুর্গন্ধময় নালাগুলোই বা কোথায় ! চারিদিকে স্বচ্ছ জলের ধারা - এতদূর থেকেও তার নিচটুকু দেখা যায় - চকচক করছে পাথর, নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে কত রঙিন মাছ | উৎস কোথায়  আছে ঐ পাহাড়গুলোর মাঝে | হয়তো কোনো ঝর্ণা | প্রতিদিন ভাবি খুঁজে দেখবো, কিন্তু রাখল বাঁশিতে সুর তুললেই কেমন অবশ হয়ে আসে শরীর, মন, তারপর আসতে আসতে যেতে থাকি তার দিকে | আজ পর্যন্ত পৌঁছতে পারিনি | গরুগুলোও বড় শান্ত আর বাধ্য | রাখালটাকে বড্ড ভালবাসে | কি নাম, কে জানে ছেলেটার ? মাঝে মাঝে ভাবি চিৎকার করে জিজ্ঞাসা করি | কিন্তু ভয় হয় রাখালের তাল কেটে যায় যদি - চারিদিকে এত সুরের মাঝে চিৎকার করতে লজ্জা করে | 
আসতে আসতে সময় চলে এখানে | কারো কোনো তাড়া নেই | সবাই সোবর৪ জন্য প্রতিক্ষা করে, জায়গা ছেড়ে দেয় | দেওয়ার মাঝেই এরা সব পেয়েছে - হারানোর যে কিছুই নেই | সবাই যে একই সমতলে দাঁড়িয়ে | নিজেকে বড় ছোট লাগে, আওন্য সময় মাথার উপরের এতবড় আকাশটাতো চোখেই পড়ে না, না হলে সব সময় লাগতো |
অনেকদিন হল আমি এই জগতে আসার ছাড়পত্র পেয়েছি | কিন্তু আশপাশে আর কোনো পৃথিবীর মানুষকে আজও খুঁজে পাইনি | এ কথাটা মনে এলেই মনে পড়ে আমি একা নই - আমার একটা সংসার আছে, একটা অফিস আছে, যেখানে আমার অনেক দায়িত্ব | কত সম্মান, কত ঈর্ষা, কত ব্যর্থতা | কত সৌভাগ্য এখনো অপেক্ষা করছে আমার জন্য -
হঠাৎ চারপাশটা অন্যরকম লাগে | রাখালের সুরটা যেন বিষণ্ন শোনাচ্ছে | ফিরে যাচ্ছে সে, সাথে গৃহপালিতের দল | তাদের মধ্যে কিছু বিমর্ষতা - পাহাড়গুলো ঝাপসা হতে থাকে |
রাত অনেক হয়েছে - এবার শুতে যাওয়া দরকার | সমস্ত চেতনা আর সকাল যে পৃথিবীর | আমি এখনো সেই মানুষটি হয়ে উঠতে পারিনি যার জন্য রাখল বাঁশি বাজায় |
 
 
 
 
শারদ সংখ্যার জন্য লেখা পাঠান আমাদের দপ্তরে : 
email করুন : mukhchobi@gmail.com
subject এ লিখুন : Sahitto
email এ নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর অবশ্যই জানাবেন |
 
 
 
 
 
 

place name place name place name